সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের বিরুদ্ধে অর্থপাচার তদন্তের অংশ হিসেবে তার পারিবারিক গাড়িচালক ইলিয়াসের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানার চরলক্ষ্যা শিকলবাহা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ওসমান তালুকদার নামে এক ব্যক্তির বাসা থেকে ২৩ বস্তা নথি উদ্ধার করা হয়, যাতে বিদেশে অর্থ পাচার ও দেশীয় ব্যবসার সঙ্গে সম্পর্কিত কাগজপত্র রয়েছে বলে জানা গেছে।
দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়–১ এর উপপরিচালক সুবেল আহমেদ অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ১৭ সেপ্টেম্বর ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবিএল) থেকে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের মামলায় জাবেদের দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগী—আরামিট পিএলসির এজিএম উৎপল পাল ও আরামিট থাই অ্যালুমিনিয়ামের এজিএম আব্দুল আজিজকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের মঞ্জুর করা পাঁচ দিনের রিমান্ডে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানের নেতৃত্ব দেন মামলার বাদী ও দুদকের উপপরিচালক মশিউর রহমান। তিনি জানান, জাবেদের স্ত্রী রুখমিলা জামানের গাড়িচালক ইলিয়াস নথিগুলো শিকলবাহার বাড়ি থেকে সরিয়ে ওসমান তালুকদারের বাড়িতে গোপন করেছিলেন। পরে তালা ভেঙে ওই বাসা থেকে ২৩ বস্তা নথি জব্দ করা হয়। এসব নথির মধ্যে বিদেশে অর্থপাচার ও বিভিন্ন নামসর্বস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র রয়েছে। দুদক জানায়, নথিগুলো যাচাই-বাছাইয়ের পরই বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব হবে।
এর আগে চলতি বছরের ২৪ জুলাই দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়–১ এ সাইফুজ্জামান জাবেদ, তার স্ত্রী, ভাই-বোন এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ৩১ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, জাবেদ পরিবার আরামিটের কর্মকর্তাদের নামে পাঁচটি নামসর্বস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলে। এর একটি প্রতিষ্ঠানের নামে গম, ছোলা, হলুদ ও মটর আমদানির জন্য ‘টাইম লোন’ সুবিধায় ঋণের আবেদন করা হয়। তাদের মালিকানাধীন ইউসিবিএল থেকেই অনুমোদিত এই ঋণের ২৫ কোটি টাকা একই ব্যাংকের চারটি অন্য প্রতিষ্ঠানের হিসাবে স্থানান্তর করা হয় এবং পরবর্তীতে বিদেশে পাচার করা হয়।
আদালতের রেকর্ড অনুযায়ী, সাইফুজ্জামান জাবেদ ও তার স্ত্রী রুখমিলা জামানের নামে যুক্তরাজ্যে ৩৪৩টি, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২২৮টি এবং যুক্তরাষ্ট্রে ৯টি বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট ও জমি ক্রোক ও ফ্রিজ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গত ৫ মার্চ আদালত তাদের পরিবারের নামে থাকা ৩৯টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করেন। এসব হিসাবে জমা রয়েছে ৫ কোটি ২৬ লাখ টাকার বেশি।
দুদকের আবেদনের পর আদালত আরও আদেশ দেন জাবেদের ১০২ কোটি টাকার শেয়ার এবং ৯৫৭ বিঘা জমি জব্দ করার। এর পাশাপাশি, ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর আদালতের আরেক আদেশে জাবেদ ও তার স্ত্রী রুখমিলা জামানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
এইসব আদেশ ও অভিযানে স্পষ্ট হয়ে উঠছে, সাবেক ভূমিমন্ত্রী জাবেদ ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে অর্থপাচার ও দুর্নীতির জাল কতটা বিস্তৃত। দুদক সূত্র বলছে, উদ্ধারকৃত নথি পর্যালোচনার পর আরও নতুন তথ্য প্রকাশ হতে পারে।


