চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) চান্দগাঁও ও পাঁচলাইশ থানার যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও মাদকদ্রব্যসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানে সিএমপি’র বিশেষায়িত সোয়াত টিমও অংশ নেয়।
শুক্রবার (১০ অক্টোবর) ভোর পর্যন্ত টানা অভিযানে বিভিন্ন স্থান থেকে এসব উদ্ধার করা হয়। অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উত্তর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার আমিরুল ইসলাম।
পুলিশ সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) দুপুর ১২টা থেকে শুক্রবার ভোর ৪টা পর্যন্ত চান্দগাঁও থানাধীন বহদ্দারহাট কাঁচা বাজারের পেছনে মাছ বাজারের উপরের তৃতীয় তলার একটি কক্ষে, পাঁচলাইশ থানার শুলকবাহর হাজী আইয়ুব আলী সওদাগর রোডের সমিল গলিতে এবং বাকলিয়া থানার কালামিয়া বাজার এলাকায় একযোগে অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে তিনজনকে গ্রেফতার হয়। এর হলো- মো. বেলাল (২৮), হৃদয় বড়ুয়া (৩০) ও মো. আজাদ (২৩)।
এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অন্তত ২৪ জন পালিয়ে যায়। তাদের মধ্যে অন্যতম হলো সন্ত্রাসী শহিদুল ইসলাম ও আইয়ুব আলীসহ বেশ কয়েকজন চিহ্নিত আসামি।
অভিযানে গ্রেফতারকৃতদের হেফাজত থেকে ১৩টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—বিদেশি পিস্তল ৫টি, একনলা বন্দুক ৩টি, দেশীয় পাইপগান ২টি, শর্ট শুটার গান ১টি, দেশীয় একনলা লম্বা বন্দুক ২টি।
এছাড়া ৫৮ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১৩টি ম্যাগাজিন, ৯৫টি বুলেট, ৩,৫০০ পিস ইয়াবা, ১,১০০ পুরিয়া গাঁজা (ওজন ৫ কেজি ৫০০ গ্রাম), ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা নগদ, ওয়াকিটকি ২টি, ড্রোন ১টি, সিসি ক্যামেরা ৭টি, ডিভিআর ২টি, টাকা গণনার মেশিন, এবং একটি মোটরসাইকেলসহ বিপুল পরিমাণ আলামত জব্দ করা হয়।
এছাড়া উদ্ধার করা হয় বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম—ড্রিল মেশিন, রড কাটার, রেঞ্জ, টিপছোরা, লোহার রড ইত্যাদি।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে চান্দগাঁও থানায় দুটি মামলা দায়ের হয়েছে। এরমধ্যে একটি
অস্ত্র আইনে অপরটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অভিযানের সময় পালিয়ে যাওয়া সন্ত্রাসী শহিদুল ইসলাম বুইশ্যা ও আইয়ুব আলী চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলার আসামি বলে জানিয়েছে পুলিশ। পালিয়ে যাওয়াদের মধ্যে শহিদুল ইসলাম বুইশ্যার বিরুদ্ধে ১৯টি মামলা, আইয়ুব আলীর বিরুদ্ধে ১৮টি মামলা, মো. ইদ্রিসের বিরুদ্ধে ৯টি মামলা, মো. ইয়াছিনের বিরুদ্ধে ৫টি মামলা এবং শিবুর বিরুদ্ধে ৪টি মামলা রয়েছে।
পুলিশ বলছে, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় অস্ত্র ব্যবসা, মাদক বেচাকেনা, দস্যুতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল।

উপ-পুলিশ কমিশনার আমিরুল ইসলাম বলেন,“অভিযানে জড়িত প্রত্যেককে চিহ্নিত করা হয়েছে। যারা পালিয়েছে, তাদেরও দ্রুত গ্রেফতার করা হবে। চট্টগ্রামে সন্ত্রাসী ও মাদক চক্রের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
গ্রেফতার আসামিদের আদালতে প্রেরণের প্রক্রিয়া চলছে বলে নিশ্চিত করেছে চান্দগাঁও থানা পুলিশ।


