আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ মেয়াদে দ্বাদশ সংসদ সদস্যদের জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করা ৩০টি বিলাসবহুল গাড়ি সরকারকে হস্তান্তর করা হচ্ছে। নিলামে সন্তোষজনক দর না পাওয়ায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এসব গাড়ি সরকারের পরিবহন অধিদফতরের কাছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে এনবিআর থেকে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, গাড়িগুলোর বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১২ কোটি টাকা। নিলামে বিক্রয়মূল্য ধরা হয়েছিল ৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা, কিন্তু দর উঠেছে মাত্র এক লাখ থেকে তিন কোটি ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত। এমন কম দর ওঠায় দ্বিতীয় নিলাম স্থগিত করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গত বছরের জুন-জুলাই মাসে এমপিরা জাপান থেকে টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার ২০২২ মডেলের গাড়ি শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করেন। কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সংসদ ৬ আগস্ট ভেঙে দেওয়া হয় এবং এনবিআর এমপিদের শুল্কমুক্ত সুবিধা বাতিল করে। ফলে সেপ্টেম্বরে দেশে আসা গাড়িগুলো কাস্টমসের জিম্মায় রাখা হয়।
চট্টগ্রাম কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করা ২৪টি গাড়িসহ মোট ৪৪টি গাড়ি নিলামে তোলা হয়েছিল। অনলাইন দরপত্র জমা শুরু হয় ২৭ জানুয়ারি এবং শেষ হয় ১৬ ফেব্রুয়ারি। মোট ১৩৭টি দরপত্র জমা পড়ে, যেখানে ৩২ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। তবে ১০টি গাড়িতে কোনো দরই ওঠেনি।
নিয়মানুসারে, প্রথম নিলামে নির্ধারিত দরের ৬০ শতাংশ বা তার বেশি দর উঠলে গাড়ি বিক্রির সুযোগ থাকে। কিন্তু কোনও গাড়িতেই সেই মানদণ্ডে দর উঠেনি। ফলে দ্বিতীয় নিলাম আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তা স্থগিত করা হয়।
কাস্টমস সূত্র আরও জানায়, এসব গাড়ির প্রতিটির আমদানি মূল্য ছিল প্রায় দেড় কোটি টাকা, কিন্তু ৮০০ শতাংশ শুল্কের কারণে দেশে এর বাজারমূল্য দাঁড়ায় ১২ কোটির বেশি। এমপি হওয়ার সুবাদে তারা শুল্ক ছাড়ে গাড়িগুলো আমদানি করেন। তবে সংসদ বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ায় এবং সুবিধা বাতিলের পর এগুলো সরকারের সম্পত্তি হিসেবে গৃহীত হচ্ছে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের উপকমিশনার এইচ এম কবিব বলেন,“শুল্কমুক্ত সুবিধায় সাবেক সংসদ সদস্যদের আমদানি করা ৩০টি গাড়ি সরকারের পরিবহন অধিদফতরে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনবিআর। আমরা ইতিমধ্যে চিঠি পেয়েছি। প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শিগগিরই গাড়িগুলো হস্তান্তর করা হবে।”
এ সিদ্ধান্তের ফলে সরকার একদিকে গাড়িগুলোর মালিকানা পাবে, অন্যদিকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতি থেকে বাঁচবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন।


