বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

লড়ছে ছাত্রশিবির, ছাত্রদলসহ ১৩ প্যানেল

কাল বুধবার চাকসু নির্বাচন

সাকিব উদ্দিন :

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর কাল বুধবার অনুষ্ঠিত হবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল নির্বাচন। নির্বাচনকে ঘিরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিরাজ করছে সাজ সাজ রব। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বইছে নির্বাচনী আমেজ। শিক্ষার্থীদের মাঝে দেখা গিয়েছে উৎসাহ-উদ্দীপনা। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নিবাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সকাল থেকে মোতায়েন থাকবে বিপুল পরিমাণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

চাকসু নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মনির উদ্দিন বলেন, ‘চাকসু নির্বাচনের জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন গ্রহণ করা হয়েছে। ভোটারগন নির্বিগ্নে তাদের প্রচন্দের প্রার্থীদের ভোট প্রদান করবেন।’
এবার চাকসুর সপ্তম নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ২৭ হাজার ৫১৬ জন। যাতে ভিপি-জিএসসহ কেন্দ্রীয় সংসদে পদ আছে ২৬টি। ১৫ হল ও হোস্টেল সংসদে পদ সংখ্যা ১৪টি করে। যার বিপরীতে প্রার্থী ৯০৮ জন। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় সংসদে ১৩টি প্যানেল ও স্বতন্ত্র মিলে প্রার্থী ৪১৫। ৫টি অনুষদ ভবনে ১৫ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে ৬০টি কক্ষে।

মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা পরিদর্শন করেন র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান। এ সময় তিনি এক ব্রিফিং-এ সাংবাদিকদের বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তা নিয়ে তেমন কোনো হুমকি দেখছে না। শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে কোনো হুমকি নেই। শুধু বাইরে থেকে ইন্ধন না এলে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা যাবে।’

লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান বলেন, ‘নির্বচানে এপিবিএন প্রচুর পরিমাণে নিয়োগ থাকবে এবং আমাদের র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের কমপক্ষে আটটি টহল দল সবসময় থাকবে এবং অতিরিক্ত রিজার্ভ ফোর্স আমরা রাখব, প্রয়োজন হলে তারাও আসবে। এছাড়াও আমাদের সাদা পোশাকে বেশ কিছু গোয়েন্দা সংস্থা থাকবে, গোয়েন্দার লোকজন থাকবে। এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক মনে হয়েছে। আশা করি নির্বাচনটা খুব সুন্দরভাবে, সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে।’
১৯৬৬ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর এখন পর্যন্ত ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়েছে মাত্র ছয়বার। এরমধ্যে প্রথম নির্বাচনটি হয় ১৯৭০ সালে। আর সর্বশেষ নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯০ সালে। ফলে এখন যারা ভোট করেছেন, তাদের কেউই আগে সংসদ দেখার সুযোগ পাননি। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত  চাকসু নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। যদিও ১৯৭৩ সালের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী, প্রতি বছর ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি।

ফিরে দেখা ৬ বারের চাকসু নির্বাচন :

১৯৭০ সালের প্রথম চাকসু নির্বাচনে ভিপি নির্বাচিত হন ছাত্রলীগের মোহাম্মদ ইব্রাহিম এবং জিএস হন ছাত্রলীগের আবদুর রব। ১৯৭১ সালের ১৩ এপ্রিল চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়াতে তৎকালীন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সামনে পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হন চাকসু জিএস আবদুর রব। ১৯৭২ সালে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় চাকসু নির্বাচন। এ নির্বাচনে ছাত্র ইউনিয়নের শামসুজ্জামান হীরা ভিপি এবং জাসদ ছাত্রলীগের মাহমুদুর রহমান মান্না জিএস নির্বাচিত হন। ১৯৭৪ সালের তৃতীয় চাকসু নির্বাচনে জাসদ ছাত্রলীগের এস এম ফজলুল হক ভিপি ও গোলাম জিলানী চৌধুরী জিএস নির্বাচিত হন। ১৯৭৯ সালের চতুর্থ চাকসু নির্বাচনে ভিপি হন জাসদ ছাত্রলীগের মাজহারুল হক শাহ চৌধুরী এবং জিএস হন আওয়ামী লীগ সমর্থিত ছাত্রলীগের জমির চৌধুরী। ১৯৮১ সালে চাকসুর পঞ্চম নির্বাচনে ভিপি ও জিএস পদে নির্বাচিত হন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সে সময়ের নেতা জসিম উদ্দিন সরকার ও আবদুল গাফফার। ১৯৯০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ চাকসু নির্বাচনে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের প্রার্থী জাতীয় ছাত্রলীগের নাজিম উদ্দিন ভিপি নির্বাচিত হন। আর জিএস নির্বাচিত হন সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি আজিম উদ্দিন আহমদ।

১০ মিনিটে দিতে হবে ১৪ ভোট :

চাকসু নির্বাচনে ভোটারদের কেন্দ্রীয় সংসদ ও হল সংসদ মিলে মোট ৪০টি ভোট দিতে হবে। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ২৬টি ও হল সংসদের ১৪টি পদে ভোট দিতে সময় নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ ১০ মিনিট। ফলে একজন শিক্ষার্থীকে গড়ে প্রতি ২০ সেকেন্ডে একটি করে ভোট দিতে হবে। তবে ভোটাররা পর্যাপ্ত সময় নিয়ে ভোট দিতে পারবেন বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মনির উদ্দিন বলেন, ‘আমরা আনুমানিক ধরে রেখেছি ১ জন ভোটারের কেন্দ্রীয় ও হল সংসদ মিলিয়ে মোট ৪০টি পদে ভোট দিতে প্রায় ১০ মিনিট লাগবে। তবে আমাদের পক্ষ থেকে কোনও সময়ের লিমিটেশন নেই। ভোটাররা পর্যাপ্ত সময় নিয়ে ভোট দিতে পারবেন। তাদের যতটুকু সময় লাগবে ততটুকু নিয়েই আশা করি ভোট দেবেন।’

ওএমআর মেশিনে ভোট গণনা :

এ নির্বাচনের ভোট হবে ব্যালট পেপারে। গণনা হবে ওএমআর (অপটিক্যাল মার্ক রিডার) পদ্ধতিতে। এ পদ্ধতিতে ভোটারদের বৃত্ত পূরণ করে ভোট দিতে হবে। ফলাফল ঘোষণার ক্ষেত্রে, কেন্দ্রীয় সংসদের ফল প্রকাশ করা হবে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ থেকে এবং হল সংসদের ফল ঘোষণা করা হবে নিজ নিজ কেন্দ্র থেকে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মনির উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের ভোট হবে ব্যালটে। ভোটগ্রহণ শেষে গণনা হবে ওএমআর পদ্ধতিতে। অ্যানালগ পদ্ধতিতে গণনা করলে অনেক সময় লাগবে। তাই আমরা এ পদ্ধতিতে যাবো না।’

তিনি বলেন, ‘গোপন কক্ষ ছাড়া সব কেন্দ্রে থাকবে সিসিটিভি ক্যামেরা। ব্যালট পেপার ছাপা হবে কমিশনের উপস্থিতিতে, সর্বোচ্চ গোপনীয়তা বজায় রেখে। নির্বাচনে ব্যালট পেপারে থাকবে ২৪ অঙ্কের একটি নিরাপত্তা কোড ও একটি গোপন কোড। যা ওএমআর মেশিনে শনাক্ত করা যাবে।’

কোন পদে কতজন প্রার্থী :

চাকসু নির্বাচনে মোট প্রার্থী হয়েছেন ৯০৮ জন। যার মধ্যে কেন্দ্রীয় সংসদে ২৬টি পদে লড়বেন ৪১৫ জন প্রার্থী। এদের মধ্যে সহসভাপতি (ভিপি) পদে ২৪ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ২২ জন, সহ-সাধারণ সম্পাদক এজিএস পদে ২১ জন, খেলাধুলা ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে ১২ জন, সহ-খেলাধুলা ও ক্রীড়া সম্পাদক ১৪ জন, সাহিত্য-সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে ১৭ জন, সহ-সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে ১৫ জন, দফতর সম্পাদক পদে ১৭ জন, সহ-দফতর সম্পাদক পদে ১৪ জন, ছাত্রীকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক পদে ১৩ জন, সহ-ছাত্রীকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক পদে ১০ জন, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক ১১ জন, গবেষণা ও উদ্ভাবনবিষয়ক সম্পাদক পদে ১২ জন, সমাজসেবা ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক ২০ জন, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ১৫ জন, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ১৭ জন, ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট ও আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ১৬ জন, যোগাযোগ ও আবাসনবিষয়ক সম্পাদক ১৭ জন, সহ-যোগাযোগ ও আবাসনবিষয়ক সম্পাদক ১৪ জন, আইন ও মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক ৯ জন, পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়াবিষয়ক সম্পাদক ২০ জন। এ ছাড়া নির্বাহী সদস্য পদে ৮৫ জন।

অন্যদিকে, ১৪টি হল সংসদে লড়বেন ৪৭৩ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে ছাত্রদের ৯টি হল ও ১টি হোস্টেল মিলে ৩৫০ জন এবং ছাত্রীদের ৫টি হলে ১২৩ জন। যার মধ্যে ছেলেদের হলগুলোতে রয়েছে- এএফ রহমান হলে ৩৮, আলাওল হলে ৩২, অতীশ দীপংকর হলে ৩৭, শাহ আমানত হলে ৪৩, শহীদ ফরহাদ হোসেন হলে ৪৫, মাস্টারদা সূর্যসেন হলে ৩৭, শহীদ আব্দুর রব হলে ৩১, শাহজালাল হলে ৩৪, সোহরাওয়ার্দী হলে ৫৩। এ ছাড়া শিল্পী রশিদ চৌধুরী হোস্টেলে ২০ জন।

এ ছাড়া মেয়েদের হলগুলোতে রয়েছে- বিজয় ২৪ হলে ২৮, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হলে ৩০, নওয়াব ফয়জুন্নেসা হলে ১৭, প্রীতিলতা হলে ২৬, শামসুন্নাহার হলে ২২।

কোন কেন্দ্রে কত ভোটার :

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি অনুষদ ভবনের ১৫টি কেন্দ্রে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া প্রতিবন্ধীশিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে চাকসু ভবনে ১টি অতিরিক্ত কেন্দ্র স্থাপন করেছে নির্বাচন কমিশন। এসব কেন্দ্রের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৬৫ থেকে ৭০টি কক্ষ। প্রতিটি কক্ষে থাকবে পাঁচটি ব্যালট বাক্স এবং পাঁচ জন করে এজেন্ট। একটি কেন্দ্রে সর্বোচ্চ ৫০০ ভোটার ভোট দিতে পারবেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ভোটার রয়েছেন ২৭ হাজার ৫১৮ জন। এর মধ্যে ছেলে ভোটার আছেন ১৬ হাজার ১৮৯ ও নারী ভোটার রয়েছেন ১১ হাজার ৩২৯ জন।

যার মধ্যে, প্রকৌশল অনুষদে ভোট দেবেন ৪ হাজার ৩৬ জন। তারা সোহরাওয়ার্দী হলের শিক্ষার্থী। কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের নতুন ভবন শহীদ হৃদয় চন্দ্র তরুয়া ভবনে ভোট দেবেন ৫ হাজার ২৬৩ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে শাহজালাল হলের ২ হাজার ৬৬৬ জন, এ এফ রহমান হলের ১ হাজার ৩০৭ ও আলাওল হলের ১ হাজার ২৯০ জন ভোটার রয়েছেন।

বিজ্ঞান অনুষদ ভবনে ভোট দেবেন ৪ হাজার ৫৩৮ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে শাহ আমানত হলের ২ হাজার ২৪৭ জন, শহীদ আবদুর রব হলের ১ হাজার ৭৭৫ ও মাস্টারদা সূর্য সেন হলের ৫১৬ জন।

সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভবনে ভোট দেবেন ৬ হাজার ৬০৬ শিক্ষার্থী। যার মধ্যে নবাব ফয়জুন্নেছা হলের ১ হাজার ১৭৯ জন, শামসুন নাহার হলের ২ হাজার ২৯১, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হলের ২ হাজার ৪৮৭ ও অতীশ দীপংকর হলের ৬৪৯ জন।

ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ ভবনে ভোট দেবেন মোট ৭ হাজার ৭৩ শিক্ষার্থী। যার মধ্যে প্রীতিলতা হলের ২ হাজার ৫৫৫ জন, বিজয়–২৪ হলের ২ হাজার ৬০৪, শহীদ ফরহাদ হোসেন হলের ১ হাজার ৭৬০ ও শিল্পী রশিদ চৌধুরী হোস্টেলের ১৫৪ জন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মনির উদ্দিন বলেন, ‘আমরা প্রতিটি বুথে সর্বোচ্চ ৫০০ শিক্ষার্থীর ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। প্রত্যেক শিক্ষার্থী কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের জন্য ২৬টি ও হল সংসদের জন্য ১৪টিসহ মোট ৪০টি ভোট দিতে পারবেন। আমরা যাচাই করে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য ১০ মিনিট সময় বরাদ্দ করেছি। তবে দুই থেকে তিন মিনিট সময় বেশি লাগলেও সমস্যা হবে না।’

নির্বাচন ঘিরে ১১ বার করে চলবে শাটল ট্রেন, চলাচল করবে ৩০ বাস :

বুধবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোটের দিন শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ১১ বার করে চট্টগ্রাম নগর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করবে শাটল ট্রেন। এ ছাড়া চলাচল করবে ৩০টি বাস। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে নির্বাচনের দিন কোন ধরনের বহিরাগত গাড়ি ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারবে না।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে প্রথম ট্রেন ছেড়ে যাবে সকাল সাড়ে সাতটায়। এটি বিশ্ববিদ্যালয় পৌঁছাবে সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে। একই স্টেশন থেকে ৮টায় একটি ট্রেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। ষোলশহর স্টেশন থেকে সকাল সাড়ে ৯টা, সোয়া ১০টা, বেলা সাড়ে ১১টা ও বেলা পৌনে একটায় ট্রেন ছাড়বে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে বেলা আড়াইটা, বেলা সাড়ে তিনটা, বিকেল ৫টা, রাত সাড়ে ৮টা ও রাত সাড়ে ১০টা ১০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে ট্রেন ছেড়ে যাবে।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চট্টগ্রাম স্টেশনের উদ্দেশে প্রথম ট্রেন ছেড়ে যাবে সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে। সেটি ৯টা ১০ মিনিটে ষোলশহরে পৌঁছাবে। এরপর সকাল ৯টা ৫ মিনিট, সকাল সাড়ে ১০টা, বেলা ১১টা ৫ মিনিট, বেলা ১টা, বেলা ২টা, বেলা ৩টা ৩৫ মিনিট, বিকেল ৪টা ৪০ মিনিট, সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিট, রাত ৯টা ৪৫ মিনিট ও রাত পৌনে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছেড়ে যাবে।
চাকসুর নির্বাচন কমিশনের প্রধান মনির উদ্দিন বলেন, চাকসু নির্বাচনে ভোটারদের সুবিধার্থে যাতায়াতের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করা হয়েছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিশেষ ট্রেন ও বাস চলাচল করবে। নির্বাচনের দিন সকাল নয়টায় নিউমার্কেট থেকে পাঁচটি ভাড়া বাস এবং ষোলশহর শপিং কমপ্লেক্স থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পাঁচটি বাস ক্যাম্পাসের উদ্দেশে রওনা হবে। সকাল ১০টায় আরও পাঁচটি বাস বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। বেলা তিনটা ও বিকেল চারটায় ক্যাম্পাস থেকে পাঁচটি করে বাস ষোলশহরের উদ্দেশে ছাড়বে। সর্বশেষ বিকেল সাড়ে পাঁচটায় ক্যাম্পাস থেকে পাঁচটি বাস নিউমার্কেটের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে।

প্রশাসনের প্রস্তুতি :

নির্বাচনকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেড় হাজারেরও বেশি নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব, বিএনসিসি, রোভার স্কাউট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাবাহিনী দায়িত্বে থাকবে। এর মধ্যে র‌্যাবের ৮টি ব্যাটালিয়ন টিম রয়েছে, যারা নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে শেষ না হওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসে অবস্থান করবে। বিভিন্ন স্থানে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত রিজার্ভ টিম মোতায়েনের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।
র‌্যাব কর্মকর্তা জানান, ‘বুধবার সকাল থেকে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত আমরা অবস্থান করবো। প্রয়োজনে অতিরিক্ত টিম যোগ হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে চেষ্টা করছি নির্বাচনটি যেন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।’ এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি অনুষদে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিশেষ নিরাপত্তা টিম কাজ করবে। সেনাবাহিনী থাকবে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত