চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদনের দায়ে দেশপর অন্যতম মিষ্টি ও বেকারি পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘ফুলকলি ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেড’ ও ‘মিষ্টিফুল সুইটস এণ্ড বেকারী’কে তিন লাখ টাকা করে মোট ৬ লাট টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অভিযানে দেশের বৃহত্তম খাদ্য পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘ফুলকলি ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেড’ এর মিষ্টির ভেতর মরা মাছি, পচা ও বাসী মিষ্টি এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ঘি সংরক্ষণের মতো ভয়াবহ অনিয়ম ধরা পড়ে।

মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল ফেরদাউস এর নেতৃত্বে পরিচালিত এক মোবাইল কোর্টে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে অংশ নেয় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, জেলা ও মেট্রোপলিটন কার্যালয় চট্টগ্রাম-এর কর্মকর্তারা এবং বাকলিয়া থানার একটি চৌকস পুলিশ টিম।
অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা জানান, অভি্যান চলাকালে ফুলকলি ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেডে দেখা যায়- উৎপাদন কক্ষে মিষ্টির ট্রেতে মরা মাছি পড়ে আছে, খাদ্য প্রস্তুতের সরঞ্জামাদি নোংরা এবং পুরনো তেল ও মেয়াদোত্তীর্ণ উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি পচা ও বাসী মিষ্টিও সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে বলে নিশ্চিত হন কর্মকর্তারা। প্রতিষ্ঠানটি নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ এর নিয়মাবলি লঙ্ঘন করে দীর্ঘদিন ধরে জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমিকিস্বরূপ খাদ্য উৎপাদন করছে।
এই অপরাধে ফুলকলি ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেডের মালিকপক্ষকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এর আগেও একই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদনের অভিযোগে প্রশাসন জরিমানা করেছিল। কিন্তু পূর্বের অভিজ্ঞতা থেকেও প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা নেয়নি।
অভিযানে আরও একটি প্রতিষ্ঠান ‘মিষ্টিফুল সুইটস এণ্ড বেকারী’-তে ভয়াবহ অনিয়ম ধরা পড়ে। সেখানে অনিবন্ধিত উপায়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নিম্নমানের খাদ্যপণ্য তৈরি, হাইড্রোজেন তেলের ব্যবহার, মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্য সংরক্ষণসহ নানা অসঙ্গতি পাওয়া যায়। এ অপরাধে প্রতিষ্ঠানটির মালিককেও তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযানে উপস্থিত নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা জানান, সাধারণ জনগণের স্বাস্থ্যের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোতে এ ধরনের অস্বাস্থ্যকর কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। তারা জানান, নগরীর বিভিন্ন মিষ্টি, বেকারি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় নিয়মিত তদারকি অভিযান চলবে।


