চট্টগ্রামের রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় প্রকৌশল বিভাগ–১ অফিসে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে দুই অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ ওঠার প্রায় ১০ মাস পর এই কমিটি গঠিত হয়।
জানা গেছে, পাহাড়তলী এলাকায় রেলওয়ের বিভাগীয় প্রকৌশল বিভাগ–১ এর অফিসটি পাহাড়ি টিলার ওপর অবস্থিত হওয়ায় স্থানটি বেশ নির্জন। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অফিসের দুই কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযুক্তরা হলেন—অফিস সহকারী সাখাওয়াত হোসেন ও নিলীমা মজুমদার।
ঘটনার প্রতিবাদে গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর খালাসি আরিফ রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী–১ বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। পরে চলতি বছরের ২ জানুয়ারি তিনি ও ওয়েম্যান শান্তনু একই বিষয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ব্যবস্থাপক বরাবর আরেকটি অভিযোগ করেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সাখাওয়াত ও নিলীমা অফিসে এসে লাইট ও গেট বন্ধ করে দেন। পরে গার্ডকে নাস্তার জন্য পাঠিয়ে দিয়ে দীর্ঘ সময় অফিসে অবস্থান করেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে গার্ডসহ কয়েকজন অফিসের দরজা খুলতে বললেও তারা সাড়া দেননি।
ঘটনা জানতে পেরে অফিসের প্রধান সহকারী নজরুল ইসলাম লোকজনকে শান্ত করে বলেন, বিষয়টি তিনি বিভাগীয় প্রকৌশলীকে জানাবেন। অভিযোগকারীরা পাশের গ্রামীণফোন অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত করার দাবি জানান।
তবে অভিযোগের পর দীর্ঘ ১০ মাস কোনো ব্যবস্থা নেয়নি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আবার আলোচনায় আসে।
এরপর চলতি বছরের ১৪ জুন রেলওয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রকৌশল দপ্তর থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির আহ্বায়ক করা হয় সহকারী প্রকৌশলী–১ মো. ফারুক আহমেদকে, সদস্য হিসেবে রাখা হয় সহকারী সংস্থাপন কর্মকর্তা (চট্টগ্রাম) এবং আএনবি চট্টগ্রামের সহকারী কমান্ড্যান্টকে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত অফিস সহকারী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “আমি এসব বিষয়ে কিছু জানি না।”
অন্য অভিযুক্ত নিলীমা মজুমদারকে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি, পরে বার্তা পাঠালেও সাড়া মেলেনি।
বিভাগীয় প্রকৌশলী এবিএম মনিরুজ্জামান বলেন, “বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।”
তবে অফিসের প্রধান সহকারী নজরুল ইসলাম প্রথমে অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক সহকারী প্রকৌশলী মো. ফারুক আহমেদ বলেন, “ব্যস্ততার কারণে এখনও তদন্ত কাজ শুরু করতে পারিনি। তবে যথাসময়ে সঠিক তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেব।”
স্থানীয়দের মতে, অভিযোগের পর দীর্ঘদিন কর্তৃপক্ষের নীরবতা প্রশাসনিক শৃঙ্খলার প্রশ্ন তুলেছে। এখন দেখা যাচ্ছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার পরই প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে।


