বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

“জুলাই গণহত্যাকারীরা কেউ ছাড় পাবে না: ট্রাইব্যুনালে হাসিনার বিতর্কিত ফোনালাপ উন্মোচন”

নিজস্ব প্রতিবেদক

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন, জুলাই মাসে সংঘটিত গণহত্যাকারীদের কেউই ছাড় পাবে না। এমনকি যারা প্রতিবিপ্লব ঘটিয়ে বিচার প্রক্রিয়া বানচাল করার ষড়যন্ত্র করছে বা ভবিষ্যতে করবে, তাদের জন্যও বার্তা স্পষ্ট—তাদেরও রেহাই নেই। তিনি বলেন, যারা তরুণদের রক্ত ঝরিয়েছে, সেই হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে, এবং রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কোনও প্রকার গাফিলতি করা হবে না।

গতকাল সোমবার (১১ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় শিক্ষার্থী আনাসসহ ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন। চানখাঁরপুল গণহত্যা মামলার এই সূচনা বক্তব্যে তিনি শুধু মামলার প্রেক্ষাপটই তুলে ধরেননি, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ অডিও ফোনালাপও আদালতের সামনে উপস্থাপন করেন, যা বিচার প্রক্রিয়ার অন্যতম প্রমাণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।

ফোনালাপটি গত বছরের ১৪ জুলাই রাতে সংঘটিত হয়, যেখানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য মাকসুদ কামালের মধ্যে কথোপকথন হয়। অডিওতে শোনা যায়, শেখ হাসিনা মাকসুদ কামালকে বলেন—“রাজাকারের কী অবস্থা হয়েছে দেখিস নাই, সবগুলোকে ফাঁসি দিছি, এবার তোদেরও ছাড়ব না।” কথোপকথনের আরেক অংশে তিনি বলেন—“ইংল্যান্ডে ছাত্ররাজনীতির জন্য কয়েকজনকে গুলি করে মেরে ফেলেছিল, ওই রকম অ্যাকশন নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নাই।” এই বক্তব্য আদালতে উপস্থাপন করে চিফ প্রসিকিউটর ইঙ্গিত দেন যে, ঘটনাটি ছিল পরিকল্পিত এবং এতে উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশ জড়িত থাকতে পারে।

প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের আরও জানান, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের পরিবারের সদস্যরা এখনও জীবিত আছেন। তারা প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আদালতে সাক্ষ্য দেবেন। তাদের বর্ণনার মাধ্যমেই প্রমাণ হবে কীভাবে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল এবং কীভাবে দেড় হাজারেরও বেশি মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এসব পরিবারের প্রতি ন্যায়বিচার প্রদানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।

মামলার প্রথম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণে হাজির ছিলেন শহীদ আনাসের বাবা পলাশ এবং মা। আনাস ছিলেন চানখাঁরপুলে সংঘটিত ওই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম শিকার। এর আগে ১৪ জুলাই ট্রাইব্যুনাল এ মামলায় পলাতক চার আসামিসহ মোট আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। আদালতের আদেশ অনুযায়ী ১০ আগস্ট মামলার সূচনা বক্তব্য এবং ১১ আগস্ট থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

বর্তমানে কারাগারে আটক চার আসামি হলেন—শাহবাগ থানার সাবেক ওসি (অপারেশন) আরশাদ হোসেন, কনস্টেবল সুজন মিয়া, ইমাজ হোসেন ইমন ও নাসিরুল ইসলাম। অপর চারজন আসামি পলাতক রয়েছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। মামলার নথি অনুযায়ী, এই আটজনই ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে বা প্রত্যক্ষ সহায়তা দিয়ে হত্যাকাণ্ডে ভূমিকা রেখেছিলেন।

এর আগে গত ৩ জুলাই এ মামলার অভিযোগ গঠন নিয়ে দ্বিতীয় দিনের শুনানি শেষ হয়। সেদিন আসামিপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সিফাত মাহমুদ শুভ এবং প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন মিজানুল ইসলাম ও গাজী এমএইচ তামিম। আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণ ও সাক্ষ্য থেকে স্পষ্ট হয় যে, চানখাঁরপুল গণহত্যা ছিল সুপরিকল্পিত এবং এর মাধ্যমে আন্দোলন দমন করার চেষ্টা করা হয়েছিল।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত