গোটা দেশে আলোচনার ঝড় তোলা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বহুল আলোচিত বালিশকাণ্ডের পর কেটে গেছে প্রায় অর্ধযুগ। কিন্তু এখনও শেষ হয়নি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত। একের পর এক কমিশন বদলালেও মামলার অগ্রগতি শূন্য।
২০১৯ সালে প্রকাশিত এ ঘটনায় অভিযোগ ছিল—প্রতি বালিশ কেনা হয়েছে ৫ হাজার ৯৫৭ টাকায়, খাটে তোলার মজুরি ধরা হয় ৭৬০ টাকা, কমফোর্টার কেনা হয় ১৬ হাজার ৮০০ টাকায় এবং বিদেশি চাদরের দাম ধরা হয় প্রায় ৬ হাজার টাকা। বাজারমূল্যের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি দামে এসব কেনাকাটা করে প্রায় সাড়ে ৩১ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার পর দুদক দুই ঠিকাদার ও গণপূর্ত বিভাগের ১১ প্রকৌশলীসহ ১৩ জনকে আসামি করে চারটি মামলা দায়ের করে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে অভিযুক্তদের গ্রেফতারও করা হয়েছিল। তৎকালীন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ জানিয়েছিলেন, প্রতিবেদন দ্রুত দেওয়া হবে। কিন্তু ইকবাল মাহমুদ থেকে মঈনউদ্দীন আব্দুল্লাহ, আর বর্তমানে আব্দুল মোমেন কমিশন—তিন কমিশন পেরিয়েও তদন্তের অগ্রগতি নেই।
দুদকের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মোমেন বলেন, “২০০৪ সালের আগের দুর্নীতির মামলাও এখনো চলমান। ধীরগতির কথা আমরা অস্বীকার করছি না। যত দ্রুত সম্ভব জট কমানোর চেষ্টা করছি। তবে সীমাবদ্ধতা থাকলেও দায় বর্তমান কমিশন এড়াতে পারে না।”
দুদকের সাবেক মহাপরিচালক মঈদুল ইসলাম প্রশ্ন তোলেন, “রূপপুরের মতো বিশাল দুর্নীতি কাণ্ডে নতুন কমিশনের দৃষ্টি আটকালো না কেন? উল্টো তদন্ত বিলম্বের পক্ষে যুক্তি দিচ্ছে।”
অন্যদিকে দুর্নীতি বিরোধী জাতীয় সমন্বয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান সাজু অভিযোগ করেন, “বালিশকাণ্ডের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের যোগসাজশ থাকায় অতীতে মামলা শেষ হয়নি। দ্রুত তদন্ত শেষ করতে হবে।”
অর্ধযুগ পরেও তদন্তের ধীরগতিতে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—অপরাধীদের আড়াল করতেই কি এমন বিলম্ব?


