নিজস্ব প্রতিবেদক :
‘আজ বুঝলাম সময়ের কাছে মানুষ কত অসহায়’—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এমন একটি পোস্ট দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ও শোভনদন্ডী ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য শামসেদ হিরু (৪৫)।
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যা সাতটার দিকে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এ পোস্ট দেন তিনি। পরদিন শুক্রবার (১১ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে তার শয়নকক্ষ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

শামসেদ হিরু উপজেলার শোভনদন্ডী ইউনিয়নের রশিদাবাদ গ্রামের বক্স আলী ফকির বাড়ির মৃত মো. শুক্কুর মেম্বারের ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। তিনি পটিয়া উপজেলার শোভনদন্ডী ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান ইউপি সদস্য এবং আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ দক্ষিণ জেলা শাখার সদস্য ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পটিয়া সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শামসেদ হিরুর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পটিয়া থানায় একাধিক মামলা হয়। এসব মামলার কারণে তিনি দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। সম্প্রতি এলাকায় ফিরে এলেও গ্রেফতার এড়াতে তিনি নিজ ঘরে রাত যাপন করতেন না। প্রতিদিনের মতো গতকাল রাতেও তিনি পার্শ্ববর্তী এক আত্মীয়ের ঘরে থাকেন। শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে তার স্ত্রী ডাকতে গিয়ে কোনো সাড়া না পেয়ে দরজার ছিদ্র দিয়ে দেখে তিনি রশিতে ঝুলে আছেন। পরে স্থানীয়রা দরজা ভেঙে তাকে নিচে নামায়।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই লাশটি নিচে নামিয়ে ফেলা হয়। আমরা ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছি। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।’
শামসেদ হিরুর আত্মহত্যার পেছনে কী কারণ ছিল, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তার ফেসবুক পোস্ট এবং পারিবারিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


