বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

প্রভাবশালী বালি সিন্ডিকেটের প্রভাব-অর্থে ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন শিশু মুনতাহার লাশ 

আনোয়ার হোছাইন, ঈদগাঁও (কক্সবাজার) : 

মাত্র চার বছর বয়সী অবুঝ শিশুটির নাম সিদরাতুল মুনতাহা। খেলাধুলায় মেতে থাকা বয়সে সে অবৈধ বালি খেকোদের লোভ ও অনিয়মের বলি হলো। বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের রাজঘাট বনবিট এলাকায় অবৈধ বালি উত্তোলনের কারণে সৃষ্ট গভীর গর্তে পড়ে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারায় সে।

এই মৃত্যুকে ঘিরে শোকের মাতম নেমেছে পরিবারে। ছোট্ট মেয়ের লাশ জড়িয়ে বাবা মো. সাগর বারবার ভেঙে পড়লেও সান্ত্বনার ভাষা খুঁজে পাওয়া যায়নি কারো কাছে। মায়ের আহাজারিতে পুরো এলাকা স্তব্ধ হয়ে যায়। প্রতিবেশীরাও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না। একটা শিশুকে বালির গর্ত গিলে নিল, অথচ দোষীদের কেউ আইনের মুখোমুখি হলো না।’

নিহতের লাশ ঈদগাঁও পুলিশ উদ্ধার করে একই দিন বিকালে কক্সবাজার মর্গে পাঠায়। এলাকাবাসীর আশা ছিল মুনতাহার মৃত্যু অন্তত বালি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা আনবে। কিন্তু সেই আশাও ভেঙে গেল। লাশ মর্গে রাখা হয় ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময়। পরে প্রভাবশালী মহলের চাপ ও অর্থের প্রলোভনে শিশুটির পরিবারের উপর সমঝোতা চাপিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। শেষ পর্যন্ত ময়নাতদন্ত ছাড়াই বৃহস্পতিবার বিকেলে মুনতাহাকে দাফন করা হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জুবাইদুল্লাহ বলেন, নিহত শিশুর পরিবার ও অভিযুক্ত পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। তবে কিসের বিনিময়ে এই সমঝোতা হয়েছে তা তিনি জানেন না।

ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মছিউর রহমান বলেন, ‘অভিযোগের ভিত্তিতে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছিল। পরে ভিকটিম পক্ষ এডিএম বরাবর আবেদন করে ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের অনুমতি নেয়। এর পরবর্তী বিষয়ে তিনি অবগত নন।’

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বহু বছর ধরে হোসেন মাঝি নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে অবৈধ বালি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। সরকারি-বন বিভাগের জমিতে অনুমোদন ছাড়াই ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালি তোলা হয়। এতে সৃষ্টি হয় বিপজ্জনক গর্ত। এর আগে এসব গর্তে পড়ে একাধিক শিশুর মৃত্যু হলেও প্রতিবারই অর্থ ও প্রভাব খাটিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। ফলে এলাকার সড়কগুলো নষ্ট হয়ে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়লেও চক্রটি থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে।

বালি সিন্ডিকেটের প্রধান হোসেন মাঝির সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

মুনতাহার মৃত্যুতে পুরো এলাকায় ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা বলেন, ‘প্রতিবারই বালি খেকোদের কাছে আইনের পরাজয় ঘটে। এবারও তাই হলো। একটি অবুঝ প্রাণের বিনিময়ে সিন্ডিকেট টিকে রইল। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত