চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার জট ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। আগের তুলনায় বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রমে গতি ফিরেছে। কনটেইনার খালাস ও ডেলিভারির প্রক্রিয়ায় সময়ানুগতা নিশ্চিত হওয়ায় এ পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটেছে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ডে মজুত ছিল ৩৯ হাজার ৭৮৫ টিইইউ’স (প্রতিটি ২০ ফুট দৈর্ঘ্যের কনটেইনারকে একটি ইউনিট হিসেবে ধরা হয়)। একই দিনে বন্দরে কনটেইনার আনলোড হয়েছে ৭ হাজার ৮০৯ টিইইউ’স এবং ডেলিভারি দেওয়া হয়েছে ৬ হাজার ৫১০ টিইইউ’স। বন্দর ইয়ার্ডে বর্তমানে খালি রয়েছে আরও ১৩ হাজার ৭৩৩ টিইইউ’স ধারণক্ষমতার জায়গা।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইয়ার্ডে সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ৫৩ হাজার ৫১৮ টিইইউ’স হলেও ৩০ থেকে ৩২ হাজার টিইইউ’স পর্যন্ত কনটেইনার থাকলে তা স্বাভাবিক পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচিত হয়। এ অবস্থার তুলনায় এখনও ইয়ার্ডে মজুত রয়েছে তুলনামূলক বেশি কনটেইনার। তবে নিয়মিত ডেলিভারি ও খালাস কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় চাপ কমে আসছে।
বর্তমানে বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করছে ১৬টি কনটেইনারবাহী জাহাজ, যেগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রায় ১২ হাজার টিইইউ’স কনটেইনার। পাশাপাশি জেটিতে আরও ১১টি জাহাজে চলছে কনটেইনার ওঠানামার কাজ।
বন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্বাভাবিক সময়ে দিনে গড়ে ৪ হাজার কনটেইনার খালাস হয়। বর্তমানে তা কিছুটা বেড়েছে। ফলে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তারা।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) ক্যাপ্টেন আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ বলেন, ‘বন্দরে কনটেইনার জট স্বাভাবিক হয়ে আসছে। তবে আমাদের সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ৫৩ হাজার ৫১৮ টিইইউ’স। সেই দিক থেকে এখনও অবস্থাটা চাপপূর্ণ। কিন্তু পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা ও সমন্বিত উদ্যোগের কারণে অচিরেই পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় পৌঁছানো সম্ভব হবে।’


