বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
Single Top Banner

দক্ষিণ জেলা জামায়াতের দায়িত্বশীল সমাবেশ: 

“সব ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে উৎসবমুখর নির্বাচন নিশ্চিত করা হবে”

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান বলেছেন, সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে উৎসবমুখর নির্বাচন আদায়ে গোটাজাতি আজ বদ্ধপরিকর। বাংলাদেশের মানুষ একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচন চায়।যেখানে মানুষ নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। যেন তেন উপায়ে কারো চাপিয়ে দেয়া নির্বাচন জনগণ মেনে নিবেনা। জাতির আকাংখা অনুযায়ী জুলাই সনদকে আইনী ভিত্তি দিয়ে সেই অনুযায়ী পি.আর পদ্ধতিতে অবিলম্বে জাতীয় নির্বাচন এর ব্যবস্থা করার জন্য আজকের প্রোগ্রাম থেকে জোর দাবি জানাচ্ছি।

তিনি বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকালে পটিয়াস্থ হল টুডে মিলনায়তনে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আয়োজিত আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সর্বস্তরের দায়িত্বশীলদের নিয়ে নির্বাচনী দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমীর ও কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য জননেতা আনোয়ারুল আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য চট্টগ্রাম অঞ্চল টীম সদস্য জননেতা অধ্যাপক জাফর সাদেক।

প্রধান অতিথি আরও বলেন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার নির্বাচনী আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থীদের বিজয়ী করতে জনগণকে সাথে নিয়ে দায়িত্বশীল সর্বস্তরের দায়িত্বশীলদের ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। জামায়াতে ইসলামী সবচেয়ে যোগ্য এবং দক্ষ প্রার্থীদের সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন। তাদের নেতৃত্বে সরকার গঠন করতে পারলে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হবে, আশা আকাংখা পূর্ণ হবে। স্বাধীন বাংলাদেশে চুয়ান্ন বছরে যারাই ক্ষমতায় গিয়েছে তারা জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন না করে নিজেদের ভাগ্য সুপ্রসন্ন করেছেন বিনিময়ে বাংলাদেশ বারবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে এবং তলা বিহীন ঝুড়ি বানিয়ে ফেলেছে। এদেশের অর্থ বিদেশে পাচার করে তারা বিদেশে বাড়ি গাড়ি ও বেগম পাড়া তৈরী করেছে। দু:শাসন ও সীমাহীন জুলুম নির্যাতন করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে বিনা ভোটের নির্বাচন, রাতের নির্বাচন ও ডামী নির্বাচন করে নিকৃষ্ট ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছে। যার প্রেক্ষিতে ছাত্রজনতার আন্দোলনের মুখে বাংলাদেশ ছেড়ে পুরো সরকারকে ভারতে পালিয়ে যেতে হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সামনে জাতীয় নির্বাচন। এই নির্বাচন হবে ভারতীয় আধিপত্যবাদ, দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে দেশপ্রেমিক ও ইসলামপ্রিয় জনগণের বিজয়ের নির্বাচন। নতুন স্বপ্নে নব উদ্যমে নতুন বাংলাদেশ গড়ার নির্বাচন। এই নির্বাচন হতে হবে সন্ত্রাস ও দখলদার মুক্ত অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। প্রতিটি উপজেলার ভোট কেন্দ্র অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পাহারা দিতে হবে। প্রত্যেক ভোটারের কাছে দাঁড়িপাল্লার প্রতীকের আহবান পৌঁছে দিয়ে বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক জাফর সাদেক বলেন, জাতীয় নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এসেছে। প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে ভোটারদের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে হবে। কারো সাথে সংঘাতে না জড়িয়ে ভোটারদের কাছে গিয়ে দাঁড়িপাল্লার বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে জননেতা আনোয়ারুল আলম চৌধুরী বলেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লার ঐতিহাসিক বিজয় নিশ্চিত করতে ইউনিয়নের প্রতিটি ইউনিটে নিয়মিত গণসংযোগ অব্যাহত রাখতে হবে। ভোটারদের কাংখিত পরিবেশ তৈরী করতে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালন করতে হবে। উৎসবমুখর নির্বাচন হলে জেলার প্রতিটি আসনে দাঁড়িপাল্লার বিজয় নিশ্চিত হবে, ইনশাআল্লাহ।

জেলা সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা বদরুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে জেলা সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ জাকারিয়া, অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলাম, এডভোকেট মোহাম্মদ নাছের, সাংগঠনিক সেক্রেটারি অধ্যাপক মাহমদুল হাসান, মাওলানা নুরুল হোসাইন, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা কামাল উদ্দিন, নুরুল হক, ইঞ্জিনিয়ার শহীদুল মোস্তফা, অধ্যক্ষ মাওলানা ইসমাইল হক্কানি, আ.ক.ম ফরিদুল আলম অধ্যাপক আসাদুল্লাহ ইসলামাবাদী সহ উপজেলা নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত