ইসলামি দলগুলোর সম্মিলিত শক্তিকে একত্রিত করতে আট দলের জোট সমঝোতার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলন, নেজামে ইসলাম পার্টি, জাগপা ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি—এই আট দলের মধ্যে কয়েক মাসের ধারাবাহিক বৈঠক ও আলোচনার পর এখন প্রার্থিতা বণ্টন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের পথে অগ্রসর হচ্ছে।
জোটের সবাই একমত—যে আসনে যে দলের সম্ভাবনা বেশি, সেই প্রার্থীই শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন পাবে। সমঝোতা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের জরিপ, স্থানীয় জনপ্রিয়তা, সাংগঠনিক শক্তি, পূর্বের নির্বাচন ফলাফল, দলীয় নেতাদের গ্রহণযোগ্যতা ও আসনভিত্তিক কৌশল—সবকিছু বিবেচনায় রেখে তালিকা তৈরি হচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামী প্রায় এক বছর আগে থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করেছে। আমিরসহ কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতারা নিজ নিজ এলাকায় প্রচারণা জোরদার করেছেন। তাদের মধ্যে ডা. শফিকুর রহমান (ঢাকা-১৫), অধ্যাপক মুজিবুর রহমান (রাজশাহী-১), ডা. তাহের (কুমিল্লা-১১), মিয়াগোলাম পরওয়ার (খুলনা-৫), রফিকুল ইসলাম খান (সিরাজগঞ্জ-৪), ড. হামিদুর রহমান আযাদ (কক্সবাজার-২)সহ আরও অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। দলটি জোটকে জানিয়েছে, তারা সম্ভাবনাময় প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তাদের হাতপাখা প্রতীকে পুরো ৩০০ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। চরমোনাই পীর নিজে নির্বাচন করবেন না বলে নিশ্চিত করেছেন, তবে তার নেতৃত্বে সারাদেশে প্রার্থীরা সক্রিয়। দলটির শীর্ষ প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন মুফতি ফয়জুল করীম (বরিশাল-৫), মাওলানা আব্দুল আওয়াল (খুলনা-৩), মাওলানা ইউনুস আহমদ (খুলনা-৪), গাজী আতাউর রহমান (গাজীপুর-৫), মুফতি আবুল খায়ের (বরিশাল-৪)সহ আরও অনেকে।
দেয়াল ঘড়ি প্রতীকের খেলাফত মজলিস ২৫৮ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। হবিগঞ্জ, কুষ্টিয়া, ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় তাদের শক্ত তৃণমূল অবস্থান রয়েছে বলে দলটি দাবি করেছে। মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ (হবিগঞ্জ-২), ড. আহমদ আবদুল কাদের (হবিগঞ্জ-৪), অধ্যাপক সিরাজুল হক (কুষ্টিয়া-৩)–এদের নিয়ে আলোচনা সবচেয়ে বেশি এগিয়েছে।
রিকশা প্রতীকের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২৭৪ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করলেও সমঝোতার জন্য তারা ১০০ আসন অগ্রাধিকার তালিকায় রেখেছে। শীর্ষ নেতা মাওলানা মামুনুল হককে ঢাকা-১৩, ঢাকা-৭ বা বাগেরহাট-১—এই তিন আসনের যেকোনো একটিতে প্রার্থী করা হবে বলে দলের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে। এছাড়া ফরিদপুর, সুনামগঞ্জ, শরীয়তপুর, নোয়াখালি, কিশোরগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার নেতারা মনোনয়ন আলোচনায় এগিয়ে আছেন।
খেলাফত আন্দোলন বটগাছ প্রতীক নিয়ে একাধিক আসনে সক্রিয়। মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী (ঢাকা-৭), ইউসুফ সাদেক হক্কানি (ফরিদপুর-১), মুজিবুর রহমান হামিদী (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩/৫), মুফতি আব্দুল আজিজ (চট্টগ্রাম-৫)সহ শীর্ষ নেতারা নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণা চালাচ্ছেন।
নেজামে ইসলাম পার্টি এবং জাগপাও নিজেদের উপযোগী আসন বেছে নিয়েছে। নেজামে ইসলামের শীর্ষ নেতারা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সুনামগঞ্জ অঞ্চলে শক্তিশালী অবস্থান নিশ্চিত করতে কাজ করছেন। অন্যদিকে জাগপার সাতটি আসনে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা আছে, তবে জোটের সমঝোতা অনুযায়ী এই সংখ্যা কমতে পারে।
সবশেষে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি ময়মনসিংহ-৯ এবং ভোলা-৩ আসনে প্রার্থিতা প্রায় নিশ্চিত করেছে।
জোটের নেতারা বলছেন, চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংসদ নির্বাচনে ইসলামি শিক্ষার্থীদের সাফল্যের পর তাদের আত্মবিশ্বাস আরও বেড়েছে। তারা মনে করেন, যদি সমঝোতা সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে ইসলামি ভোট বিভক্ত হবে না এবং জাতীয় রাজনীতিতে তারা বড় ভূমিকা রাখতে পারবেন।
চূড়ান্ত সমঝোতা আগামী বৈঠকেই ঘোষণা হতে পারে বলে জোটের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা জানিয়েছেন।


