শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Single Top Banner

আইআইইউসি’র ৬ষ্ঠ সমাবর্তনে ৭ হাজার ৯৪৯ শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি প্রদান করা হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক :

যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সমাবর্তন অনুষ্ঠান সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ একাডেমিক উৎসব বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (আইআইইউসি)-এর ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী। তিনি বলেন, আগামী ৩১ জানুয়ারি (শনিবার) আইআইইউসি’র ৬ষ্ঠ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে মোট ৭ হাজার ৯৪৯ জন শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি প্রদান করা হবে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবর্তনে ১৩ জনকে চ্যান্সেলর পুরস্কার এবং ৫১ জনকে ভাইস-চ্যান্সেলর পুরস্কার প্রদান করা হবে বলেও জানান তিনি।

ভাইস চ্যান্সেলর জানান, আইআইইউসি’র প্রথম সমাবর্তনে গ্র্যাজুয়েট সংখ্যা ছিল ১৯৫ জন, দ্বিতীয়তে ৪৭৪ জন, তৃতীয়তে ২ হাজার ৩৫৯ জন, চতুর্থতে ২২ হাজার ৮৫৯ জন এবং পঞ্চম সমাবর্তনে ১৫ হাজার ৩২৬ জন। এ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়টি ৪৫ হাজারেরও বেশি গ্র্যাজুয়েট উপহার দিয়েছে।

১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত আইআইইউসি’র শিক্ষার লক্ষ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, জ্ঞানের সঙ্গে নৈতিকতার সমন্বয় ঘটিয়ে দেশপ্রেম, মানবিকতা, সততা, বিজ্ঞানমনষ্কতা ও দক্ষতাসম্পন্ন আদর্শ নাগরিক গড়ে তোলাই এ বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল উদ্দেশ্য। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টির ৬টি অনুষদের অধীনে ১৫টি বিভাগ রয়েছে। এখানে ৩৪৫ জন সার্বক্ষণিক শিক্ষকসহ সাড়ে চার শতাধিক শিক্ষক পাঠদান করছেন, যাদের মধ্যে ৮৪ জন পিএইচডিধারী।

৫০ একর জমির ওপর নিজস্ব ক্যাম্পাসে প্রায় ৬ লক্ষ ৫০ হাজার বর্গফুট আয়তনের ৪২টি ভবনে আইআইইউসি’র শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আধুনিক কম্পিউটার ও ইন্টারনেট ল্যাব, ২ হাজার ৩৬৪টি জার্নাল, ৩৫ হাজার ৫০০ ই-জার্নাল এবং ১ লাখ ৩ হাজার ৯৯৫টি বই সমৃদ্ধ একটি নান্দনিক লাইব্রেরি রয়েছে বলে জানান তিনি।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত রয়েছে। নেপাল, শ্রীলঙ্কা, চীন ও সোমালিয়াসহ বিভিন্ন দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদেশি শিক্ষার্থীও এখানে পড়াশোনা করছে।
দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বৃত্তির ব্যবস্থা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার ডিভিশনের মাধ্যমে প্রতিবছর ৭ কোটি টাকার বেশি আর্থিক সহায়তা ও বৃত্তি প্রদান করা হয়।

গবেষণার ক্ষেত্রে আইআইইউসি বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড পাবলিকেশন্স (সিআরপি)-এর বার্ষিক বাজেট এক কোটিরও বেশি টাকা। এ পর্যন্ত ১৮টি আন্তর্জাতিক একাডেমিক কনফারেন্স সফলভাবে আয়োজন করা হয়েছে। সর্বশেষ গত ২৪ ও ২৫ জানুয়ারি ১৮তম আন্তর্জাতিক কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ৮টি দেশের ১১টি বিশ্ববিদ্যালয় কো-অর্গানাইজার ছিল এবং ১৭২ জন গবেষক প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়টির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, চীন, মালয়েশিয়া, তুরস্কসহ ২৬টি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক রয়েছে। প্রকাশনা সূচকে বাংলাদেশের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে আইআইইউসি প্রথম এবং বিশ্বে ২৮টি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ১৪তম অবস্থানে রয়েছে। স্কোপাস ও এসসিআইম্যাগো র‌্যাংকিংয়েও আইআইইউসি শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আইআইইউসি’র ট্রেজারার প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ, রেজিস্ট্রার কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ কাসেম পিএসসি এবং কনভোকেশন-২০২৬ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সংবাদ সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন সিনিয়র সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মোসতাক খন্দকার।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত