সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Single Top Banner

চট্টগ্রামে পাইকারিতে চিনি ৯৫, খুচরায় ১১৫ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

চিনি-মিষ্টি স্বাদের হলেও এর দাম একসময় হয়ে উঠেছিল বাজারের অন্যতম তিক্ত অভিজ্ঞতা। শতক ছড়ানো দাম, সরকারের নিয়ন্ত্রণহীনতা আর সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। তবে অবশেষে বাজারে স্বস্তির বার্তা মিলেছে। চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৯৫ টাকায়, যা প্রায় তিন বছর পর একশ টাকার নিচে নেমেছে। তবে খুচরা বাজারে দাম এখনো কমেনি; সেখানে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০৫ থেকে ১১০ টাকায়।

২০২২ সালের অক্টোবরে দেশে প্রথমবারের মতো চিনির দাম ১০০ টাকার ঘর ছাড়ায়। তারপর থেকেই পণ্যটির বাজার অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তায় ভুগেছে। এমনকি বিশ্ববাজারে দাম কমলেও দেশের বাজারে তা কার্যকর হয়নি। কয়েক মাস আগেও চিনি বিক্রি হয়েছে ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকায়। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর একাধিক উদ্যোগ নেওয়ায় ধীরে ধীরে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রথমে ৮ অক্টোবর পরিশোধিত ও অপরিশোধিত চিনির নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে আনে। এরপর ১৭ অক্টোবর পরিশোধিত চিনি আমদানি শুল্ক কমানো হয়। সর্বশেষ ১৩ আগস্ট ৫ লাখ মেট্রিকটন চিনি আমদানির অনুমতি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সরকারের এসব পদক্ষেপের ফলে সরবরাহ বেড়েছে এবং বাজারে দরপতন শুরু হয়েছে।

খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা জানান, আগে চট্টগ্রামের চিনির বাজার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করত এস আলম গ্রুপ। ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি বদলেছে। এখন মেঘনা গ্রুপ, আকিজ গ্রুপসহ অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীও চিনি আমদানি করছে। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় দামে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। খাতুনগঞ্জের মেসার্স জিরি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, “এখন বিভিন্ন শিল্পগ্রুপ চিনি আমদানি করছে। তাই দামের বড় পতন হয়েছে।”

খাতুনগঞ্জ আড়তদার সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এহসান উল্লাহ জাহেদী জানান, গত এক বছরে চিনি বিক্রি হয়েছে ১৩০-১৩২ টাকায়। এখন তা ৯৫-৯৬ টাকায় নেমে এসেছে। তিনি মনে করেন, সিন্ডিকেট না থাকায় এবং বিশ্ববাজারে দাম কমার প্রভাবেই দেশে এই দরপতন হয়েছে।

বিশ্ববাজারে চিনির দাম কমার কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উৎপাদন বেড়েছে। ব্রাজিলে গত বছরের তুলনায় উৎপাদন বেড়েছে ৪ শতাংশ এবং ভারত ১৯ শতাংশ বাড়িয়েছে উৎপাদন। ফলে এক বছরের মধ্যে চিনির দাম টন প্রতি ৫৭৫ ডলার থেকে নেমে এসেছে ৪৭৩ ডলারে। এ প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে।

তবে খুচরা বাজারে এখনো দাম বেশি। বহদ্দারহাটের মুদি দোকানগুলোতে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ১০৫ টাকায়, আর কর্ণফুলী কমপ্লেক্সে ১১০ টাকায়। ক্রেতাদের অভিযোগ, পাইকারি ও খুচরা দামের মধ্যে পার্থক্য অযৌক্তিকভাবে বেশি। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা শামসুল ইসলাম বলেন, “পাইকারি দামের তুলনায় খুচরায় ১৫ টাকা বেশি রাখা হচ্ছে। অথচ পার্থক্য সর্বোচ্চ ৫ টাকা হওয়া উচিত ছিল।”

ভোক্তারা মনে করছেন, সরকারি সংস্থাগুলোকে শুধু পাইকারি নয়, খুচরা বাজারেও তদারকি জোরদার করতে হবে। তাহলে দাম আরও কমবে এবং ভোক্তারা প্রকৃত স্বস্তি পাবে।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত