শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Single Top Banner

অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের দেখামাত্র ব্রাশফায়ারে হত্যার নিদেশ সিএমপি কমিশনারের

নিজস্ব প্রতিবেদক :

আগ্নেয়াস্ত্র বহনকারী ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের দেখামাত্র সাবমেশিন গান (এসএমজি) দিয়ে ব্রাশফায়ার করে হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজ। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে সিএমপির সব থানা-ফাঁড়িতে দায়িত্বরতসহ সকল পুলিশ সদস্যদের বেতার (অয়্যারলেস) বার্তায় সিএমপি কমিশনার মৌখিকভাবে এ নির্দেশনা দিয়েছেন।

সিএমপির একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেছে, দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত কয়েক দফা পৃথক নির্দেশনাতেই কমিশনার এই নির্দেশ দিয়েছেন। গত ৫ নভেম্বর বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন খোন্দকারাবাদ এলাকায় চট্টগ্রাম-৮ আসনের বিএনপির প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর জনসংযোগে গুলিতে নিহত হন তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সরোয়ার হোসেন বাবলা। ওই ঘটনায় বিএনপির প্রার্থী এরশাদ উল্লাহও আহত হন।

কমিশনারের বেতার বার্তায় এ আদেশের কথা নিশ্চিত করে কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘কমিশনার মহোদয় বলেছেন, শটগান হবে না, চায়না রাইফেলও বাদ, এখন এসএমজি ব্রাশফায়ার মুডে থাকবে।’

এছাড়া কমিশনারের বার্তায় টহল টিমগুলোকে এসএমজি ছাড়াও শিশা শটগান, দুটি গ্যাস গান এবং টিম ইনচার্জদের নাইন এমএম পিস্তল বহনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থায়ী চেকপোস্ট বাড়িয়ে সাতটি থেকে ১৩টি করার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। বার্তায় তিনি পুলিশ সদস্যদের আত্মরক্ষার অধিকার ও দণ্ডবিধির বিধান স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছেন, সব দায়-দায়িত্ব তিনি নিজে গ্রহণ করবেন।

তবে নির্দেশনার কথা স্বীকার করে সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ বলেন, ‘আমি আমার সদস্যদের এ ধরনের একটা নির্দেশনা দিয়েছি। আপনারা জানেন, ২০২৪ সালের ৬, ৭ ও ৮ আগস্ট চট্টগ্রাম শহরে বিভিন্ন থানা থেকে পুলিশের অস্ত্র লুট হয়েছে। ফলে অনেক অস্ত্র বাইরে চলে গেছে। এসব অস্ত্র যে সন্ত্রাসীদের কাছে যায়নি, কিংবা অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে না, সেটা আমরা নিশ্চিত নয়। কিছুদিন আগে নির্বাচনি গণসংযোগে যে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, সেখানে যে অটোমেটিক পিস্তল ব্যবহার হয়েছে, সেটাও পুলিশের অস্ত্র হতে পারে। আমরা যদি অস্ত্রটা উদ্ধার করতে পারতাম, তাহলে বোঝা যেত সেটা আমাদের কী-না।’

তিনি বলেন, এ প্রেক্ষাপটে আমি নির্দেশনা দিয়েছি যে, যে বা যারা অস্ত্র নিয়ে হত্যা করতে উদ্যত হবে তাকে যেন গুলি করে মেরে ফেলা হয়। এটা দণ্ডবিধির ৭৫, ৭৬, ৯৬ থেকে ১০৬ ধারায় উল্লেখ আছে। অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি দণ্ডবিধি অনুযায়ী নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দণ্ডবিধিতে আমাকে আত্মরক্ষার অধিকার দেওয়া হয়েছে। সুতরাং যে গুলি করবে, তাকে পালটা গুলি করে হত্যার অধিকার আমার আছে। একজন আইন মান্যকারী সুনাগরিকের নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে এ পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার আমার আছে।’

সিএমপি কমিশনার আরও বলেন, ‘আগেও এটা (নির্দেশনা) ছিল, এখন আবারও দেওয়া হয়েছে। পার্থক্যটা হচ্ছে, আগে ছিল সিঙ্গেল রাউন্ড ফায়ার, এবার হবে ব্রাস্টফায়ার। অনেকে ভাববেন ব্রাশফায়ার, আসলে এটা হবে ব্রাস্টফায়ার। একসঙ্গে একাধিক গুলি বের হবে। আমি দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, এই নির্দেশনা শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। সাম্প্রতিক সময়ে শহরে পুলিশের টহল, চেকপোস্ট অনেক বৃদ্ধি করা হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, সিএমপির সকল সদস্য এই নির্দেশনা সুন্দরভাবে প্রতিপালন করবে।’

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত