বিএনপিতে যোগ দেওয়া নেতা-কর্মীদের দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বহিষ্কার করেছে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)। বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের শাহ আমানত মার্কেট এলাকায় দলটির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চট্টগ্রাম মহানগর গণতান্ত্রিক যুবদলের সভাপতি মো. আজহারুল ইসলাম অপু। তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি যারা এলডিপি ত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন, তাদের দলীয় শৃঙ্খলা অমান্য ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের দায়ে বহিষ্কার করা হয়েছে। এসব সুবিধাবাদী ব্যক্তিকে ভবিষ্যতে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
এলডিপি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে একীভূত হয়েছে-এমন অপপ্রচারের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘কুচক্রী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এলডিপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে। স্পষ্টভাবে বলতে চাই, জামায়াতের সঙ্গে এলডিপির কোনো রাজনৈতিক একীভূতকরণ হয়নি। কেবল নির্বাচনী আসন সমঝোতা হয়েছে। এলডিপি নিজস্ব স্বকীয়তা ও প্রতীক বজায় রেখেই নির্বাচনে অংশ নেবে।’
দলত্যাগীদের ‘সুবিধাভোগী’ আখ্যা দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘কিছু আদর্শহীন মানুষ দল ছেড়ে যাওয়ায় এলডিপির কোনো সাংগঠনিক ক্ষতি হবে না। বরং এতে দল আরও পরিচ্ছন্ন, সুসংগঠিত ও শক্তিশালী হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম-১০ আসনে এলডিপির মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় নেতা ফাহাদ চৌধুরী দিপু বলেন, ‘রাজনৈতিক বাস্তবতায় জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যে আসনে এলডিপি প্রার্থী দেবে, সেখানে জামায়াত প্রার্থী দেবে না এবং জামায়াত যেখানে প্রার্থী দেবে, এলডিপি সেখানে প্রার্থী দেবে না। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে এগিয়ে নিয়ে যাব।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর এলডিপির সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল আজগর চৌধুরী, গণতান্ত্রিক স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি বিএম সায়েদুল হক, কোতোয়ালী থানা এলডিপির সভাপতি আবু সাঈদ, সাধারণ সম্পাদক ইকরামুল করিম ইমন এবং মহানগর গণতান্ত্রিক স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান প্রমুখ।
এর আগে গত বুধবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের হাতে ফুল দিয়ে বিএনপিতে যোগ দেন এলডিপির একঝাঁক নেতাকর্মী।


