শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Single Top Banner

ঈদগাঁওতে নতুন ওসি এটিএম শিফাতুল মজুমদার

আনোয়ার হোছাইন, ঈদগাঁও (কক্সবাজার) :

কক্সবাজারের ঈদগাঁও থানার বর্তমান অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিনের বদলীর গুঞ্জনে উপজেলার জনগণ হতাশা প্রকাশ করছে। মহিলা হয়েও তিনি অতীতের সকল ওসিকে চাপিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে উপজেলার আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে জনগণের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছেন।

উপজেলার গণমাধ্যম কর্মী ও সচেতন জনগণের অভিমত , অতীতের যে কোন অফিসার ইনচার্জদের সময়ে এমন কোন সপ্তাহ ছিলনা কোন না কোন স্থানে চুরি,ডাকাতি, ছিনতাই বা অপহরণ সংঘটিত হতনা। ঘটনার পরপরই তখনকার দায়ীত্বশীল কর্মকর্তারা লোক দেখানো মহড়া ছাড়া অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে কোন চেষ্টাই উল্লেখের মত ছিলনা। বরং অপরাধীদের আশ্রয় প্রশ্রয় দানকারী কতিপয় রাজনৈতিক নেতা ও দালালদের সাথে গোপনে সখ্যতা ও আখের গোছাতে ব্যস্ত থাকার অভিযোগ ছিল তাদের বিরুদ্ধে। যার কারণে দিন দিন এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হচ্ছিল। বিশেষ করে থানার নাকের ডগার মহাসড়ক দিয়ে নিয়মিত গাড়ি যোগে গরু ডাকাতি এবং পাহাড়ি ঈদগাঁও -ঈদগড় সড়কে ডাকাতি,অপহরণ ও মুক্তিপণ বাণিজ্য বছরের পর বছর অব্যাহত থাকলেও অতীতের কোন ওসিকে দূর্গম এ পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালাতে দেখা যায় নি। এমতাবস্থায় বিগত ওসি মোঃ:মছিউর রহমান এর স্থলে বর্তমান মহিলা ওসি ফরিদা ইয়াসমিন যোগদান করলে জনগণ আশঙ্কা করে এবার হয়ত আইনশৃঙ্খলার আরো নাজুক পরিস্থিতি হবে।

কিন্তু তিনি গত ১৯ সেপ্টেম্বর যোগদান করেই ঘোষণা দেন তিনি মহিলা হলেও চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত।যে কোন মূল্যে ভেঙে পড়া আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নের ঘোষণা দেন। যোগদানের দুই দিনের মাথায় ঈদগাঁও -ঈদগড় সড়কে অপহরণ ঘটনা ঘটলে তিনি পুলিশ সুপারের সহযোগিতায় বিশাল পুলিশ দল নিয়ে দূর্গম পাহাড়ে অবিরাম অভিযানে নেতৃত্ব দেন।যা আগেরকার কোন পুরুষ ওসিও সাহস করেননি । এতে উপজেলার অপরাধীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।এরপর থেকে তিনি উপজেলা জুড়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেন ।অল্প সময়ের মধ্যে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সড়যোগিতায় চিহ্নিত ডাকাত, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও ছিনতাইকারীদের গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নে অল্প সময়ের মধ্যে জনগণের আস্থা অর্জনে সক্ষম হন। বর্তমানে উপজেলার আইন শৃঙ্খলা অনেকাংশে স্থিতিশীল।

এমতাবস্থায় ১ ডিসেম্বর রাতে এক যোগে কক্সবাজারের নয় থানার ওসির সাথে তার বদলীর গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লে সচেতন জনগণের মাঝে হতাশা নেমে আসে। তারা জানান, ঈদগাঁও থানায় রুপান্তরিত হওয়ার পর থেকে বিগত ওসিরা যা পারেননি তিনি মহিলা হয়েও যোগদানের মাত্র দুই মাসের মধ্যে আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নে বিরাট ভুমিকা রেখেছেন।যা উপজেলার জনগণকে তার উপর আস্থাশীল করে তুলেছে। উপজেলার জনগণ আরো কিছুদিন তার সেবা পেলে এলাকা নিরাপদ আবাসস্থলে পরিণত হত বলে তাদের আশাবাদ।

এ বিষয়ে পাহাড়ি এলাকা ঈদগড়ের গণমাধ্যম কর্মী আবুল কাশেম বলেন মহিলা এ ওসির বদলীর সংবাদে তিনি চরম হতাশ। কারণ তিনি ঈদগাঁও থানায় যোগদানের পর ঈদগাঁও -ঈদগড় সড়ক দিয়ে যেভাবে জনগণ যাতায়াতের সাহস করছেন, অতীত ওসিদের সময়ে ডাকাতি আর অপহরণ আতঙ্কে তা পারেননি।তিনি যোগদানের দুই মাসের মধ্যে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা ও এলাকা ছাড়া করতে সক্ষম হয়েছেন বলে মনে করেন।

বদলীর বিষয়ে ওসি ফরিদা ইয়াসমিন জানান,তিনি এখন পর্যন্ত কোন অফিস আদেশ পাননি।তবে বদলী চাকরির অংশ। জনগণের সহযোগিতায় তিনি উপজেলার আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে আন্তরিকভাবে চেষ্টা করেছেন।

প্রসঙ্গত ১ নভেম্বর রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে একযোগে কক্সবাজার জেলার নয় থানার ওসি বদলি হচ্ছেন।যার মধ্যে ঈদগাঁও থানার নবনিযুক্ত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে দক্ষিণাঞ্চলের নীলফামারী জেলার বাসিন্দা এটিএম শিফাতুল মজুমদারের নাম প্রচার হয়।

তি‌নি ইতিপূর্বে চট্টগ্রামের দক্ষিন রাঙ্গুনিয়া থানায় অফিসার ইনচার্জ হিসেবে দায়ীত্ব পালন করেন এবং ২০২৫ সা‌লের এপ্রিল মাসে তিনি চট্টগ্রাম জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ মনোনীত হন।

Single Sidebar Banner
  • সর্বশেষ
  • পঠিত